ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে জিডি করার নিয়ম- সম্পূর্ণ গাইড
আজকের পোস্ট থেকে ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে জিডি করার নিয়ম জেনে নিন। ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে অনেকেই বুঝতে পারেন না কী করবেন, কোথায় যাবেন, বা জিডি (General Diary) কীভাবে করবেন।
বর্তমান ডিজিটাল যুগে ফেসবুক আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, ব্যবসা, মার্কেটিং এমনকি আয়ের উৎস হিসেবেও অনেকেই ফেসবুক ব্যবহার করছেন। কিন্তু দুঃখজনক, বাংলাদেশে প্রতিদিন অসংখ্য ফেসবুক আইডি হ্যাক হচ্ছে।
সূচিপত্রঃ ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে জিডি করার নিয়ম -স্টেপ বাই স্টেপ গাইড
- ফেসবুক আইডি হ্যাক কীভাবে বুঝবেন?
- ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে প্রথম করণীয়
- জিডি করা কেন জরুরি
- অনলাইনে জিডি করার নিয়ম
- থানায় গিয়ে জিডি করার নিয়ম
- জিডি লেখার নিয়ম
- ফেসবুক সাপোর্টে রিপোর্ট করার নিয়ম
- ভবিষ্যতে হ্যাক থেকে বাঁচার উপায়
- ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার লক্ষণ
- শেষ মন্তব্য
ফেসবুক আইডি হ্যাক কীভাবে বুঝবেন?
আপনার ফেজবুক আইডি হ্যাক হয়েছে কিনা এটা sure হওয়া জরুরি। তাই চলুন আগে জেনে নিই ফেজবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কিছু লক্ষণ।
- আপনার অনুমতি ছাড়া ফেজবুকে পোস্ট করা, স্টোরি দেওয়া বা মেসেজ দেওয়া যদি দেখেন তাহলে বুঝবেন হ্যাক করা হয়েছে।
- পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করা হয়েছে।
- ফোন নাম্বার বা ইমেইল বদলে ফেলা হয়েছে।
- আপনার ফেজবুক পেজ বা আইডি লগইন করতে পারছেন না।
এছাড়াও, যদি আপনার ইমেইলে বা ফেজবুক অ্যাপে Security Alert নোটিফিকেশন আসছে। তবে সিকিউরিটি এলার্ট নোটিফিকেশন আসলেই হ্যাক হয়েগিছে এমন মনে করবেন না। এটা আসার মানে কেউ আপনার পেজ/ আইডির নাম্বার বা পাসওয়ার্ড চেঞ্জ করা চেষ্টা করেছে তাই আপনার কাছে নোটিফিকেশন আসছে আপনি যদি তাকে approved দেন তাহলে সে আপনার Facebook-এর acess পেয়ে যাবে।
এসমস্ত লক্ষণ গুলো আপনি যদি দেখতে পান তাহলে বুঝবেন আপনার ফেজবুক হ্যাক করা হয়েছে।
ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে প্রথম করণীয়
Facebook হ্যাক হয়েছে বুঝতে পারার সাথে সাথে নিম্নোক্ত পদক্ষেপ গুলো গ্রহণ করুন। হ্যাকার-রা মানুষের সাথে প্রতারণা করার জন্য মানুষের ফেজবুক হাতিয়ে নিয়ে ফেরত দেওয়ার কথা বলে টাকা নিচ্ছে আবার তার নিকটস্থ বন্ধু বান্ধব, পরিবারের কাছ থেকে প্রকৃত আইডির মালিকের নাম করে টাকা নিচ্ছে। আবার' বিব্রত কর পোস্ট করছে।
তাই এই সমস্যা থেকে বাঁচতে সর্ব প্রথম নিকটস্থ সকল কে জানিয়ে দিবেন যে আপনার আইডি হ্যাক করা হয়েছে। আপনার নাম করে টাকা পয়সা চাইলে যাতে না দেয়। তারপর ফেসবুক Recover করার চেষ্টা করুন। রিকভার করার জন্য facebook.com/hacked ভিজিট করুন তারপর “Someone else got into my account” সিলেক্ট করুন এভাবে ধাপে ধাপে নির্দেশনা অনুসরণ করুন।
এরপর, আপনার ইমেইল ও ফোন নম্বর সুরক্ষিত করুন এবং ইমেইলের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করুন। Gmail বা Email-এ 2 Step Verification চালু করুন। প্রথমত এই পদক্ষেপ অনুসরণ করে যদি ফেজবুক ফিরে পাওয়া সম্ভব না হয় তাহলে থানায় জিডি করুন।
ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে জিডি কেন করবেন?
অনেকেই প্রশ্ন করেন “ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে জিডি করা কি দরকার? উত্তর: হ্যাঁ, অবশ্যই দরকার।
GD (জিডি) করার গুরুত্বঃ
- আইনি প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
- হ্যাকার দিয়ে কোনো অপরাধ হলে আপনি দায়মুক্ত থাকবেন।
- ফেসবুক সাপোর্টে জিডি কপি দিলে দ্রুত রেসপন্স পাওয়া যায়।
- ভবিষ্যতে সাইবার অপরাধ সংক্রান্ত সমস্যায় কাজে আসে।
ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে জিডি করার নিয়ম (বাংলাদেশ)
আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে দুইভাবে জিডি করতে পারবেন।
- অনলাইনে জিডি
- সরাসরি থানায় গিয়ে জিডি
নিচে দুটো পদ্ধতিই বিস্তারিত দেওয়া হলো।
অনলাইনে জিডি করার নিয়ম (Online GD)
বাংলাদেশ এখন অনলাইন জিডি সেবা চালু করেছে। আপনি ৫ টি ধাপ অনুসরণ করলেই জিডি করতে পারবেন।
- ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন: 👉https://gd.police.gov.bd�
- রেজিস্ট্রেশন / লগইন: মোবাইল নম্বর দিয়ে একাউন্ট খুলুন এবং আপনার নাম্বারে আসা OTP দিয়ে একাউন্ট ভেরিফাই করুন।
- GD Type নির্বাচন: Cyber Crime / Social Media Related Issue সিলেক্ট করুন
- তথ্য পূরণ করুন: নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, ঠিকানা, সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ
- সাবমিট করুন: সফলভাবে সাবমিট হলে একটি GD নাম্বর পাবেন। এটি সংরক্ষণ করুন।
থানায় গিয়ে জিডি করার নিয়ম (Offline GD)
যারা অনলাইনে করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তারা থানায় গিয়ে জিডি করতে পারেন। থানায় গিয়ে জিডি করতে যা যা লাগবে:
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
- হ্যাক হওয়া ফেসবুক আইডির লিংক বা নাম
- স্ক্রিনশট (যদি থাকে)
এসকল তথ্য নিয়ে থানায় গিয়ে ডিউটি অফিসারকে বলুন আপনার ফেসবুক আইডি হ্যাক হয়েছে। জিডি লেখার আবেদন করুন তারপর অফিসার আপনার বক্তব্য লিখে নেবেন এবং আপনাকে জিডি নম্বর দিবে সেটা সংগ্রহ করুন।
জিডি করা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
ফেসবুক আইডি হ্যাক সংক্রান্ত জিডি লেখার নিয়ম
আপনি চাইলে নিচের লেখাটি জিডি করতে ব্যবহার করতে পারেন বা আপনার নিজের মতো করে লেখতে পারেন। জাস্ট আপনার জন্য একটা নমুনা।
আমি এই মর্মে জানাচ্ছি যে, আমার ব্যবহৃত ফেসবুক আইডি (লিংক: __________) অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কর্তৃক হ্যাক করা হয়েছে।
হ্যাক হওয়ার তারিখ আনুমানিক __________।
বর্তমানে উক্ত আইডি দিয়ে আমার অজান্তে বিভিন্ন কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে, যা দ্বারা যে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।
ভবিষ্যতে উক্ত আইডি ব্যবহার করে সংঘটিত কোনো অপরাধের দায়ভার যেন আমার উপর বর্তায় না, সেই মর্মে সাধারণ ডায়েরি করা হলো।
জিডি করার পর কী করবেন?
জিডি করার পর বসে থাকলে হবে না। এরপর যা করবেন:
- ফেসবুক সাপোর্টে রিপোর্ট করুন: facebook.com/hacked। প্রয়োজন হলে জিডি কপির ছবি আপলোড করুন।
- নিয়মিত ইমেইল চেক করুন: ফেসবুক সাধারণত ২৪–৭২ ঘণ্টার মধ্যে রেসপন্স দেয়।
- নতুন পাসওয়ার্ড সেট করুন: আইডি ফিরে পেলে আগের পাসওয়ার্ড ব্যবহার করবেন না। নতুন এবং স্ট্রিং পাসওয়ার্ড সেট করুন।
ভবিষ্যতে ফেসবুক আইডি হ্যাক থেকে বাঁচার উপায়
কিছু বিষয় খেয়াল রাখলে হ্যাক থেকে বাচা সম্ভব। নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে নিচের বিষয়গুলো অবশ্যই অনুসরণ করুন তাহলে ভবিষ্যৎ-এ হ্যাক থেকে বাঁচতে পারবেন।
- Two Factor Authentication (2FA) চালু রাখুন
- কোনো প্রকার অজানা লিংকে ক্লিক করবেন না।
- ফ্রি লাইক, ফলোয়ার বা ব্লু টিক অফার এড়িয়ে চলুন। ফেজবুকে অসংখ্য লোক ১০০টাকায় ১k ফলোয়ার, লাইক এ ধরনের পোস্ট করে। পেজে এ ধরনের বট ফলোয়ার, লাইক নিবেন না।
- পাবলিক কম্পিউটার থেকে লগইন করবেন না।
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন
ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার লক্ষণ
আপনার Facebook Hacked হয়েছে কিনা আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না। তাই চলুন লক্ষণ গুলো জেনে নিই।
- আপনার অজান্তে পোস্ট বা স্টোরি আপলোড হওয়া। নিজে পোস্ট না করলেও টাইম লাইনে Photo, video বা Link দেখা যায়।
- বন্ধুদের কাছে অস্বাভাবিক মেসেজ যাওয়া। আপনি না পাঠালেও ইনবক্স থেকে লিংক, অফার বা টাকা চাওয়ার মেসেজ যাচ্ছে।
- পাসওয়ার্ড হঠাৎ কাজ না করা। সঠিক পাসওয়ার্ড দেওয়ার পরও লগইন হচ্ছে না।
- ফেসবুক থেকে Security Alert ইমেইল আসা। নতুন ডিভাইস বা লোকেশন থেকে লগইনের নোটিফিকেশন পাওয়া।
- ইমেইল বা ফোন নম্বর পরিবর্তন হয়ে যাওয়া।অ্যাকাউন্ট সেটিংসে আপনার তথ্য বদলে ফেলা হয়েছে।
- অপরিচিত ডিভাইস বা লোকেশন দেখা যাওয়া। Login Activity-তে এমন ডিভাইস বা দেশ দেখা যায় যেখানে আপনি ছিলেন না।
- ফেসবুক নাম বা প্রোফাইল ছবি পরিবর্তন। আপনার অনুমতি ছাড়া নাম, ছবি বা বায়ো বদলে গেছে।
- বন্ধু বা ফলোয়ার অজান্তে যোগ বা বাদ পড়া। নতুন অপরিচিত বন্ধু যুক্ত হয়েছে বা পরিচিতরা রিমুভ হয়েছে।
- অজানা পেজ বা গ্রুপে যুক্ত হয়ে যাওয়া। আপনি না চাইতেই বিভিন্ন পেজ লাইক বা গ্রুপ জয়েন করা।
- অ্যাড বা বুস্ট চালু হওয়া। Ads Manager-এ টাকা খরচ হচ্ছে অথচ আপনি কিছু করেননি।
- ফেসবুক সেটিংসে ঢুকতে না পারা। Security বা Privacy সেটিংস পরিবর্তন করতে গেলে সমস্যা হওয়া।
- টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বন্ধ পাওয়া। 2FA আগে চালু ছিল কিন্তু হঠাৎ বন্ধ দেখা যাচ্ছে।
- বারবার অজানা কোড বা OTP আসা। আপনি লগইন না করলেও ভেরিফিকেশন কোড আসছে।
- অ্যাকাউন্ট থেকে অস্বাভাবিক লাইক বা কমেন্ট। স্ক্যাম পোস্টে লাইক, কমেন্ট বা শেয়ার হচ্ছে।
- ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হঠাৎ লক বা ডিজেবল হওয়া। হ্যাকার ভুল কাজ করায় ফেসবুক আপনার আইডি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেয়।
আপনি যদি উক্ত ১৫টি লক্ষণ আপনার পেজ বা আইডিতে দেখতে পান তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনার আইডি হ্যাক করা হয়েছে।
শেষ মন্তব্য
ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া নিঃসন্দেহে বিরক্তিকর এবং ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। তবে আতঙ্কিত না হয়ে সঠিক নিয়মে পদক্ষেপ নিলে সমস্যা সমাধান সম্ভব। জিডি করা শুধু নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং ভবিষ্যতের আইনি সুরক্ষার জন্যও অত্যন্ত জরুরি।
আপনার বা পরিচিত কারো ফেসবুক আইডি হ্যাক হলে এই গাইডটি শেয়ার করুন। এতে অনেকেই উপকৃত হবে। এই বিষয়গুলো সবার জানা থাকা উচিত তাহলে দ্রুত সঠিক পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হবে।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url