ড্রপশিপিং বিজনেস কি এবং ড্রপশিপিং করে ঘরে বসে আয় করার সহজ উপায় জানুন

আপনি কি ঘরে বসে অনলাইন বিজনেস করার কথা ভাবছেন তাহলে এই পোস্ট টি আপনার জন্য। আজকের পোস্টে জানবেন কিভাবে ঘরে বসে ড্রপশিপিং বিজনেস করবেন।

ড্রপশিপিং বিজনেস কি এবং কিভাবে শুরু করবেন

আপনার যদি কোনো অতীত অভিজ্ঞতা নাও থাকে তাও খুব সহজেই এই ব্যবসা করতে পারবেন। কারণ- এই পোস্টে আমরা তুলে ধরেছি আমার এক বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা। আমি কিভাবে ড্রপশিপিং বিজনেস করে আয় করে থাকি।

ড্রপশিপিং বিজনেস কি এবং ড্রপশিপিং করে ঘরে বসে আয় করার সহজ উপায় জানুন

আপনি কি ঘরে বসে অনলাইন থেকে আয় করতে চান? তাহলে ড্রপশিপিং বিজনেস হতে পারে আপনার জন্য সঠিক পথ। এটি একটি সহজ এবং কম রিস্কের ব্যবসা, কারণ- এই ব্যবসায় আপনাকে বড় অংকের কোনো পুঁজি লাগে না, এটি বিনামূল্যে শুরু করা যায়। আসুন দেখি ড্রপশিপিং কী এবং কিভাবে এটি করা যায়।

ড্রপশিপিং বিজনেস কি

ড্রপশিপিং মানে সরবরাহকারী (supplier) এর পণ্য আপনি সোশ্যাল মিডিয়ায় মার্কেটিং করে অডার আনবেন। সেই পণ্য supplier ডেলিভারি করে তার লাভ রেখে আপনার প্রফিটের টাকা আপনাকে দিয়ে দিবে। নিচের ছবি দেখলে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন।

ড্রপশিপিং বিজনেস কি

উদাহরণ: আমি shopbasebd তে ড্রপশিপিং বিজনেস করি। উপরের ছবিতে দেখতেই পাচ্ছেন। একটি পাঞ্জাবি সেল করেছি যার দাম ৪৯৯ টাকা। আমি বিক্রি করেছি ৬০০ টাকা। অর্থাৎ এখানে আমার প্রফিট ১০১ টাকা। যখন shopbasebd পণ্যটি অর্ডারটি ডেলিভারি করে দিবে, তখন তারা আমার প্রফিটের টাকা আমাকে দিয়ে দিবে, এটাই Dropshiping Buisness। আপনার কাজ শুধু অর্ডার সংগ্রহ করা এবং মার্কেটিং করা। 

ড্রপশিপিং বিজনেস করার উপায়- ২০২৬

ড্রপশিপিং বিজনেস  শুরু করতে হলে আপনাকে বেশ কয়েকটি বিষয় খেয়াল রাখতে হবে সেগুলো নিম্নে তুলে ধরা হলো:-

  • নিশ ঠিক করা: আপনি যে পণ্য নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন ‍সেই পণ্যর ক্যাটাগরি। যেমন- হেলথ প্রোডাক্ট, কিচেন গ্যাজেট, স্মার্ট ফোন অ্যাকসেসরিজ অথবা ড্রেস আইটেম।  Niche নির্বাচন করার সময় এমন পণ্য বেছে নিন যার চাহিদা আছে এবং প্রতিযোগিতা খুব কম।
  • বিশ্বস্ত সরবরাহকারী খুঁজুন: বিশ্বস্ত এমন একটি সাইট থেকে পণ্য নিয়ে সেল করুন যারা সময়মতো কাস্টমারের কাছে পণ্যটি পেীছে দিবে এবং আপনার প্রফিটের টাকা আপনাকে দিয়ে দিবে। যেমন- ‍ূShopbase Bd, Aliexpress, Shopify, Daraz বা অন্যান্য ড্রপশিপিং প্ল্যাটফর্ম খুঁজে নিন। 
  • অনলাইন শপ তৈরি করুন: প্রথমে আপনি একটি ফেজবুক পেজ দ্বারা শুরু করতে পারেন কারণ- এটা সম্পূর্ণ  ফ্রী শুরু করা যায়। যখন আপনার ব্যবসা ভালো একটি রানিং পর্যায়ে চলে যাবে, নিয়মিত অডার পাবেন তখন কিছু টাকা খরচ করে Shopify, WooCommerce বা Daraz এর মতো ই-কমার্স শপ তৈরি করে নিতে পারেন।
  • মার্কেটিং করুন: ফেসবুক, ইন্সটাগ্রাম বা TikTok-এর মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় পণ্য গুলো মার্কেটিং করুন। দ্রুত ব্যবসার গ্রাে করাতে চাইলে পোস্টে বুস্ট অথবা অ্যাড রান করাতে পারেন। 
  • সর্বশেষ কাজ: কাস্টমারের থেকে অর্ডার সংগ্রহ করুন তারপর অর্ডারটি সরবরাহকারীর অডার ফিডে সাবমিট করুন, এবং পণ্যটির ডেলিভারি নিশ্চিত করুন।

ড্রপশিপিং বিজনেস করে ঘরে বসে আয় করার উপায়

বর্তমান সময়ে অনলাইন ব্যবসা অনেকেই শুরু করছে। এর মধ্যে ড্রপশিপিং হলো এমন একটি ব্যবসা যেখানে ঘরে বসেই আয় করা সম্ভব। আপনি যদি সল্প খরচে বা ফ্রী ব্যবসা শুরু করতে চান, ড্রপশিপিং হতে পারে সেরা অপশন। Shopbase Bd সাইট থেকে একদম ফ্রী-তে ব্যবসা শুরু করা যায়। আমি নিজেও এই  সাইট থেকে ১ বছরের বেশি সময় ধরে 

এই ব্যবসা সহজ কারণ আপনাকে কোনো জায়গা বা দোকান ভাড়া নেওয়া লাগবে না এবং পণ্য স্টক করার ঝামেলা নেই। আপনি শুধু  সরবরাহকারীর ওয়েবসাইট থেকে পণ্যের ছবি এবং ডেসক্রিপশন নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে অর্ডার নিয়ে আসবেন।

ড্রপশিপিং বিজনেস করার সেরা ১০টি সাইট

আপনি ড্রপশিপিং বিজনেস করবেন কিন্তু কোন সাইট থেকে করবেন বুঝতে পারছেন না তাহলে নিম্ন থেকে সেরা ১০টি ওয়েবসাইটের নাম জেনে নিন এবং কেমন সুৃবিধা পাবেন। 

ড্রপশিপিং বিজনেস করার সেরা ১০টি সাইট

  • Shopbase Bd- যারা পোশাক আইটেম নিয়ে কাজ করতে চাচ্ছেন তারা এই সাইট বেছে নিতে পারেন। কারণ- এখানে ১০ হাজারের বেশি প্রোডাক্ট রয়েছে। ছোট ছেলে, মেয়ে এবং নারী, পুরুষ সব ধরণের পোশাক আছে। 
  •  Shopify-  এখানে Clothing, electronics, beauty, home decor সব ধরনের প্রোডাক্টে আছে। আপনার পছন্দ মতো প্রোডাক্টে ক্যাটাগরি নিয়ে শুরু করতে পারেন।
  • WooCommerce- Blogging, dropshipping করার জন্য বেস্ট একটি সাইট এখানে বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা যায়। 
  • Daraz- আপনি যদি Fashion, Daily use products, Local gadgets নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে ডারাজ বেছে নিতে পারেন। এখানে Cash on delivery সুবিধা রয়েছে। 
  • Amazon- এটি একটি জনপ্রিয় সাইট এখানে রয়েছে হাই কোয়ালিটির ব্রান্ডেড প্রোডাক্ট । আপনি যদি Electronics. Branded items. Premium products নিয়ে কাজ করেন তাহলে এটা বেছে নিন। কারণ- এটি বহু বছরের পুরাতন, জনপ্রিয় এবং বিশ্বস্ত একটি সাইট। 
  •  AliExpress-  আপনি যদি প্রথমে  Low price এর প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে এটা বেছে নিতে পারেন। এখানে বিজনেস করার জন্য লাখ লাখ প্রোডাক্ট রয়েছে। 
  • Spocket- এটিতে Fashion, Home decor ইত্যাদি প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করা যায়। এখানে কাজ করার বড় সুবিধা হলো ফাস্ট ডেলিভারি এবং ভালো সাপলাইয়ার রয়েছে।   
  • SaleHoo- এখানে যে প্রোডাক্ট গুলো থাকবে সেগুলো Wholesale এ পাবেন তাই এখানে প্রফিট করার সম্ভাবনা বেশি থাকবে। এছাড়াও এখানে রয়েছে ৮ হাজারের বেশি বিশ্বস্ত সাপলাইয়ার। 
  • Etsy- আপনি যদি একদম ইউনিক ডিজাইনের প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করতে চান তাহলে এটি বেছে নিন কারণ- এখানে আছে Handmade items, Jewelry এবং Craft আইটেমের প্রোডাক্ট।  
  •  eBay- গ্যাজেট জাতীয় Used item বিক্রি করতে পারেন। এই ধরণের প্রোডাক্ট সচারাচর সবার প্রোজন পড়ে তাই Used পণ্য সহজে কম দামে বিক্রি করতে পারবেন। আপনি যদি চান গ্যাজেট জাতীয় Used item বিক্রি করবেন তাহলে এই সাইট বেছে নিতে পারেন। 
আপনি যদি বাংলাদেশ থেকে একদম নতুন ড্রপশিপিং বিজনেস শুরু করতে চান তাহলে Shopbase Bd অথবা Daraz দিয়ে শুরু করতে পারেন। এখানে কাজ করতে ১ টাকাও লাগে না এবং সহজে বিকাশ/নগদে টাকা তুলতে পারবেন। 

ড্রপশিপিং বিজনেস করতে কত টাকা লাগে

ড্রপশিপিং বিজনেস করতে কত টাকা লাগবে এটা সম্পূর্ণ আপনার উপর নির্ভর করে। আমি আগেও বলেছি Shopbase Bd, Daraz  এর মতো সাইট থেকে সম্পূর্ণ ফ্রী-তে ব্যবসা শুরু করা যায়। শুধমাত্র একটি ফেজবুক পেজ খুলে। আর যদি দ্রুত ‍সেল পেতে চান তাহলে ফেজবুকে পোস্ট বুস্ট অথবা এড রান করাতে পারেন। এক্ষেত্রে মাসে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। যদি বিনা টাকায় কাজ করেন, অরগানিক মার্কেটিং করে কাস্টমার পেতে চান তাহলে আপনাকে একটু বেশি পরিশ্রম দিতে হবে।

আপনি যদি মোটামুটি কায়দায় একটু প্রোফেশনাল ‍ভাবে শুরু করতে চনে তাহলে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা লাগতে পারে। নিম্নে আপনার জন্য একটি আনুমানিক ‍খরচ তুলে ধরলাম- 

  • ডোমেইন ও হোস্টিং খরচ ২হাজার থেকে ৩হাজার টাকা। 
  • বিভিন্ন অনলাইন শপ প্ল্যাটফর্ম থেকে সাবস্ক্রিপশন নিতে পারেন এক্ষেত্রে বছরে ৪৫00 টাকা লাগতে পারে। 
  • মার্কেটিং বাজেট এটা আপনার উপর নির্ভর করে প্রতিদিন কেমন বাজেট রাখবেন। যদি ২ডলার রাখেন তাহলে মাসে ৬০ডলার খরচ হবে। 

ড্রপশিপিং বিজনেস কি হালাল?

বিজনেস হালার হতে পারে যদি আপনি সৎভাবে পণ্য বিক্রি করেন। কাস্টমারের সাথে সঠিক চুক্তি এবং প্রাইসিং নিশ্চিত করেন। মিথ্যা বিজ্ঞাপন বা প্রতারণা না করেন তাহলে ব্যবসা হালাল হবে। 

ড্রপশিপিং বিজনেস ২০২৬ সালে ঘরে বসে আয় করার জন্য একটি নিরাপদ এবং সুবিধাজনক উপায়। সঠিক প্রস্তুতি এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে আপনি অনলাইনে স্থায়ী একটি আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন পাশাপাশি নিজের একটি ব্রান্ড তৈরি করতে পারেন। 

লেখকের শেষ মন্তব্য

আজকের পোস্টে ড্রপশিপিং বিজনেস কি এবং কিভাবে শুরু করবেন সব কিছু আলোচনা করেছি। বিজনেস করতে হলে আপনার সর্বপ্রথম প্রয়োজন ধৈর্য। একদিনে এখানে লাভবান হওয়া যায় না। আপনি যদি শুরু করতে চান তাহলে বেশি না ভেবে ১টি  ভালো নিস বেছে নিন এবং একটি ভালো প্লাটফর্ম বেছে নিয়ে কাজ শুরু করে দেন।  

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url