গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার নিয়ম- সম্পূর্ণ গাইড
গার্মেন্টস ব্যবসা করতে হলে যে বিষয় গুলো আপনাকে জানতে হবে সবকিছু আজকের এই পোস্টে তুলে ধরবো। আপনি যদি একজন সফল গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হতে চান তাহলে আজকের পোস্টটি সম্পূর্ণ মনোযোগ সহকারে পড়ুন।
বর্তমান সময়ে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ব্যবসায় শক্ত অবস্থানে আছে তাই এটি একটি লাভ জনক ব্যবসা বলতে পারেন। কিন্তু পরিকল্পনা ছাড়া নামলে লস হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তাই আজকের পোস্ট থেকে সফল গার্মেন্টস ব্যবসায়ী হওয়ার গাইড জেনে নিন।
সূচিপত্রঃ
গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার নিয়ম- সম্পূর্ণ গাইড
- ম্যানুফ্যাকচারিং (কারখানা ভিত্তিক)
- হোলসেল ব্যবসা
- রিটেইল গার্মেন্টস ব্যবসা (দোকান বা অনলাইন)
ম্যানুফ্যাকচারিং (কারখানা ভিত্তিক) ব্যবসা
ম্যানুফ্যাকচারিং মানে কাঁচামাল থেকে নিজে পণ্য উৎপাদন করা। অর্থাৎ, কাটিং, সেলাই, ফিনিশিং সব নিজের কারখানায় হবে। আপনি যদি নিজস্ব পণ্য তৈরি করে বাজারে সরবরাহ নিজের ব্রান্ড তৈরি করতে চান এবং বেশি লাভের আশা করতে চান তাহলে এই পদ্ধতিতে ব্যবসা আপনার জন্য।
কেন ম্যানুফ্যাকচারিং ব্যবসা লাভজনক? লাভজনক হওয়ার কারণ: নিজস্ব প্রোডাকশনে লাভের মার্জিন অনেক বেশি।নিজের একটি ব্র্যান্ড তৈরি করা সহজ।পণ্য পাইকারি ও রপ্তানি সুযোগ থাকে এবং এই ব্যবসা দীর্ঘমেয়াদী টিকে থাকায় অনেক দিন ধরে আয় করা যায়।
হোলসেল Garments ব্যবসা
হোলসেল গার্মেন্টস ব্যবসা কিভাবে করবেন জানার আগে হোলসেল ব্যবসা কি জানা যাক। হোলসেল ব্যবসা হলো: কারখানা থেকে কম দামে পণ্য কিনে খুচরা দোকানদার বা অনলাইন বিক্রেতাদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করা। অর্থাৎ, আপনি সরাসরি উৎপাদন করছেন না, কিন্তু বাজারের সাপ্লাই করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
এখন অনেকের মনে প্রশ্ন আসতে পারে হোলসেল ব্যবসা লাভজনক কিনা? হ্যা, সঠিক ভাবে কাজ করলে লাভ হবে। এতে আপনার অনেক বেশি পরিমাণে বিক্রি হবে, দ্রুত ক্যাশ ফ্লো হবে, সবচেয়ে বড় বিষয় মার্কেটিং খরচ কম লাগবে। এই ব্যবসা খুচরা ব্যবসার তুলনায় কম ঝামেলা। তাই আপনি যদি সঠিকভাবে প্রোডাক্ট সোর্সিং করতে পারেন তাহলে, লাভের মার্জিন ১০% থেকে ৩০% পর্যন্ত হতে পারে।
রিটেইল গার্মেন্টস ব্যবসা (দোকান বা অনলাইন)
রিটেইল ব্যবসা খুবই জনপ্রিয় ব্যবসা। বিশেষ করে অল্প পুজিতে এ ব্যবসা শুরু করা যায়। রিটেইল গার্মেন্টস ব্যবসা কী? রিটেইল মানে সরাসরি কাস্টমারের কাছে পণ্য বিক্রি করা। এখানে নিজে পাইকারি বাজার বা কারখানা থেকে পণ্য কিনে নিজের প্রফিট মার্জিন যোগ করে বিক্রি করবেন।
এই ব্যবসা অনলাইন বা অফলাইনে দুই ভাবেই করতে পারবেন। এই ব্যবসা করার জন্য আপনার সর্বপ্রথম প্রয়োজন একটি দোকান আর অনলাইনে করতে চাইলে প্রয়োজন একটি সোশ্যাল মিডিয়া যেমন: ফেজবুক, ইউটিউব, ই-কমার্স ওয়েবসাইট বা ইনস্টাগ্রাম।
আপনি এই সোশ্যাল মিডিয়ার যে কোনো একটি বেছে নিয়ে কাজ করতে পারেন। আর' দোকানের পাশাপাশি অনলাইনেও এই ব্যবসা করতে পারেন। এই পদ্ধতি অবলম্বন করে খুব সহজে নিজের ব্রান্ড ভ্যালু তৈরি করে নিতে পারবেন।
রিটেইল গার্মেন্টস ব্যবসা সঠিক পরিকল্পনা ও ধারাবাহিক ভাবে মার্কেটিং করলে লাভজনক হতে পারে। নির্দিষ্ট নিস নিয়ে কাজ করুন, ছোট থেকে শুরু করুন, ব্র্যান্ড তৈরি করুন, তারপর ধীরে ধীরে স্কেল বাড়ান।
আরও পড়ুনঃ বিকাশ এজেন্ট ব্যবসা করার নিয়ম - সম্পূর্ণ গাইড
গার্মেন্টস ব্যবসা করতে কি কি লাগে
অনেকেই বুঝেন না কীভাবে শুরু করবেন? শুরু করতে কি কি প্রয়োজন চলুন এবার সেগুলো জেনে নিই।
- সেক্টর নির্বাচন করুন- সব ব্যবসা সবার জন্য না।৷ আপনার দক্ষতা, বাজেট এবং বাজারের চাহিদা অনুযায়ী একটা নিস সিলেক্ট করুন। যেমন: ছেলেদের পোশাক বা মেয়েদের পোশাক।
- বাজার গবেষণা করুন: কোন পণ্যের চাহিদা কেমন? এবং প্রতিযোগী কারা? পাইকারি বাজার কোথায়? এগুলো ভালোভাবে দেখুন।
- লোকেশন নির্বাচন- কারখানার জন্য জায়গা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভাড়া কম, শ্রমিক সহজলভ্য এবং সুন্দর পরিবহন সুবিধা আছে এমন জায়গা দেখুন।
- ইসেন্স ও রেলাজিস্ট্রেশন- ব্যবসার জন্য ট্রেড লাইসেন্স, টিন সার্টিফিকেট, প্রয়োজনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সকল কাগজ পত্র রাখুন।
- মেশিন ও কাঁচামাল- প্রথমে ছোট স্কেলে শুরু করুন। সব মেশিন একসাথে কিনবেন না। চাহিদা বাড়লে বড় বড় মেশিন কিনুন এবং ব্যবসা বড় করুন।
ব্যবসা শুরু করতে এই জিনিস গুলো অবশ্যই রাখতে হবে। আর ডকুমেন্টস বিহীন ব্যবসা সরকার করলে আইনী ব্যবস্থা নেয় তাই সকল ডকুমেন্টস বানিয়ে নিন।
গার্মেন্টস ব্যাবসা করতে কত টাকা লাগে?
Garments Buisness করতে কত টাকা লাগবে সেটা নির্ভর করে, আপনি কেমন শুরু করতে চাচ্ছেন। আমরা ইতি মধ্যে গার্মেন্টস ব্যবসা করার তিনটি উপায় বলেছি। চলুন এবার জেনে নিই এই তিন উপায়ের মধ্যে কোনটা করতে কত খরচ হবে।
ম্যানু ফ্যাকচারিং (কারখানা ভিত্তিক)- ব্যবসা করেন খরচ সবচেয়ে বেশি পড়বে। কারণ- আপনাকে কারখানার জন্য জায়গা ভাড়া করতে হবে, মেশিন, কাঁচামাল এবং লাইসেন্স প্রয়োজন। এছাড়াও, কাজ গুলো করানোর জন্য ১৫-২০ জন লোক রাখতে হবে। তাই এখানে আপনার খরচা অনেক বেশি। তবে, এখানে প্রফিট করার সম্ভাবনাও অনেক বেশি। আপনি যদি ছোট পরিসরে শুরু করতে চান তাহলে সর্বনিম্ন (১০-৫০) লক্ষ টাকা প্রয়োজন। আর নিজের জায়গা থাকলে খরচ কমে যেতে পারে। সর্বোচ্চ আপনি যতটা বিনিয়োগ করতে পারেন।
হোলসেল ব্যবসা শুরু করতে মোটামুটি ৫-৬ লক্ষ টাকা প্রয়োজন। আপনার নিজের কারখানা থাকবে না তবে বড় কারখানা থেকে পণ্য সংগ্রহ করে আপনি পাইকারী দোকান দারদের কাছে বিক্রি করবেন। তার জন্য প্রয়োজন একটি দোকান যেখান থেকে আপনার সকল পণ্য সাপ্লাই করবেন। তারপর দরকার কিছু কর্মচারী রাখা কারণ- সব কাজ নিজে হ্যান্ডেল করতে পারবেন না। তাই ছোট পরিসরে শুরু করলেও মিডিয়াম ৫-৬ লক্ষ টাকা লাগবে।
রিটেইল ব্যবসা এটা শুধুমাত্র একটি দোকান ভাড়া নিয়ে পাইকারী বা গার্মেন্টস থেকে পণ্য সংগ্রহ করে নিজের প্রফিট রেখে বিক্রি করবেন। তাই এখানে কম ইনভেস্ট প্রয়োজন। কারণ- প্রথম অবস্থায় ১-২ জন কর্মচারী রেখে কাজ করা যায়। অনেকেই আবার কর্মচারী রাখেন না নিজেই সবকিছু হ্যান্ডেল করেন। তাই এই ব্যবসা শুরু করতে মোটামুটি ২-৩ লক্ষ টাকা হলে হয়ে যায়।
আপনার ব্যবসায় খরচ কেমন কি করবেন সেটা নির্ভর করে প্রথমে ব্যবসা কেমন পরিসরে শুরু করতে চাচ্ছেন। আমরা এখানে সর্বনিম্ন একটা বাজেট ধরে আজকের আর্টিকেল টা লেখেছি। আমরা শুধুমাত্র পণ্যর বিষয়গুলো ধরেছি আর জায়গা যদি নিজের থাকে তাহলে খরচ কমে যায় অন্যথায় ভাড়া নিয়ে কাজ করলে সিকিউরিটি খরচ, দোকান ভাড়া এসব দিয়ে খরচ অনেক বেড়ে যায়।
অনলাইনে গার্মেন্টস ব্যবসা
আপনার গার্মেন্টস এর প্রচার করার জন্য অনলাইন পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন। তাহলে সহজে আপনার সেবা মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারবেন। আপনার গার্মেন্টস এ লোক আসবে এবং অনেকেই দেখবেন অনলাইন থেকে অডার করছে।
আর, রিটেইল ব্যবসা করার জন্য অনেক ভালো একটি উপায়। কারণ- পুজি মাত্র ২ লক্ষ থেকে ৩ লক্ষ টাকা হলে সুন্দর ভাবে ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব। আপনার ব্যবসা শুরু করতে সর্বপ্রথম প্রয়োজন একটি সোশ্যাল মিডিয়া এবং সঠিক প্রোডাক্ট নির্বাচন করা। যেমন- ফেজবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম অথবা ওয়েবসাইট ইত্যাদি এগুলোতে মার্কেটিং করতে পারেন। পোশাক প্রথমেই অনেক বেশি নিয়ে কাজ করবেন না। শুধুমাত্র কয়েকটি ডিজাইন এবং ভালো কোয়ালিটি কাপড় নিয়ে কাজ করবেন। কাপড় খারাপ হলে ব্রান্ডের ক্ষতি হয় আর হলে দীর্ঘ মেয়াদি ব্যবসায় টিকে থাকা যায়।
অতএব' আপনি যদি সঠিক পরিকল্পনা করে অনলাইন ব্যবসা করতে নামেন তাহলে দীর্ঘদিন এ ব্যবসায় টিকে থাকতে পারবেন এখানে খরচ কিন্তু আয়ও বেশি হবে।
গার্মেন্টস ব্যবসায় লাভ কেমন
আপনি গার্মেন্টস ব্যবসা করলে কেমন লাভ হবে সম্পূর্ণটা নির্ভর করে আপনার পরিশ্রম আর বুদ্ধিমত্তার উপর। ব্যবসা শুরু করার আগে অবশ্যই মার্কেট রিচার্জ করতে হবে যে পণ্যর চাহিদা বেশি এবং আপনার প্রতিযোগি কম তাহলে সে জায়গায় ব্যবসা করে দীর্ঘদিন টিকে থাকা যাবে এবং লাভও অনেক বেশি হবে। বাংলাদেশে অনেক অনেক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী রয়েছে যারা মাসে লক্ষাধিক টাকা ইনকাম করে থাকে।
আপনিও চাইলে এভাবে ইনকাম করতে পারেন। তবে, যারা সফল হয়েছে তারা একদিনে না, অনেক দিনের প্রচেষ্টায়। তাই আপনাকে ধৈর্য ধরে কাজ করতে হবে এবং সঠিক পরিকল্পনা করে কাজ না করলে ব্যবসায় লস হতে পারে। চলুন নিচে থেকে দেখা যাক কোন ব্যবসায় কেমন লাভ হতে পারে।
| নং | ব্যবসার ধরণ | আনুমানিক বিনিয়োগ | লাভ (% | মাসিক সম্ভাব্য লাভ |
|---|---|---|---|---|
| 1 | ম্যানুফ্যাকচারিং (কারখানা) | ১০–৫০ লাখ টাকা | ১৫%–৩০% | ১.৫–১০ লাখ টাকা |
| 2 | হোলসেল গার্মেন্টসো | ৫–২০ লাখ টাকা | ১০%–২০% | ৫০ হাজার–৩ লাখ টাকা |
| 3 | রিটেইল দোকান | ২–১০ লাখ টাকা | ২০%–৪০% | ৪০হাজার–২ লাখ টাকা |
| 4 | অনলাইন গার্মেন্টস শপ | ৫০ হাজার–৩ লাখ টাকা | ২৫%–৫০% | ৩০ হাজার–১.৫ লাখ টাকা |
শেষ মন্তব্য
আজকের পোস্টে গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার নিয়ম তুলে ধরেছি। আশা করি পোস্টটির মাধ্যমে আপনার ব্যবসা শুরু করার জন্য ধারণা দিতে পেরেছি। সব সময় ব্যবসা করতে হলে ধৈর্য রাখবেন। ধৈর্য হীন ব্যাক্তির জন্য ব্যবসা না। আপনার যদি তাড়াতাড়ি লাভবান হওয়ার সপ্ন থাকে তাহলে ব্যবসা না করাই ভালো কারণ- ব্যবসা করতে হলে আপনাকে আপনার দোকানের পরিচিতি বাড়াতে হবে, মার্কেট ধরতে হবে এতে করে এমনিই শুরুর ৩-৪ মাস কেটে যাবে।
আপনিই যদি ধৈর্য ধরে গার্মেন্টস ব্যবসা করতে পারেন তাহলে এই buisness আপনাকে দীর্ঘদিন ধরে আয় এনে দিবে। এতক্ষণ সাথে থেকে পোস্ট পড়ার জন্য ধন্যবাদ। পোস্ট ভালো লাগবে বা কোনো কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করে জানান।


অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url