সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনার আগে যেসব বিষয় চেক করবেন

আমরা অনেকেই আছি একটা নতুন ল্যাপটপ কিনতে পারি না তাই একটু কম দামে ব্যবহৃত ল্যাপটপ কিনতে চাই। বেশি দাম দিয়ে Laptop কিনলেই যে ভালো হবে এমনটা নয়, কম বাজেটেই একটু বুঝে শুনে  কিনলে ব্যবহৃত ভালো ল্যাপটপ পেতে পারেন। তাই আজকের পোস্টে ব্যবহৃত ল্যাপটপ কেনার আগে যে বিষয়গুলো চেক করবেন সেগুলো আলোচনা করবো।

সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনার আগে যেসব বিষয় চেক করবেন

সেকেন্ড হ্যান্ড বা ইউজড ল্যাপটপ কিনলে একটা বড় ঝুকি থাকে। একটি ভুল সিধান্ত নিলে আপনার শুথু টাকাটাই নষ্ট হবে না বরং ঝামেলায়ও পড়তে পারেন। তাই এই পোস্টে খুব সহজভাবে এমন কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচনা করছি, যেগুলো চেক করলে আপনি নিরাপদে একটা ভালো সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কিনতে পারবেন।

সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনার আগে যেসব বিষয় চেক করবেন

বর্তমান সময়ে ল্যাপটপের যে দাম বাড়ছে তা দিন দিন আমাদের মতো সাধারণ মানুষের হাতের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে । তাই অনেকেই চাই বাজেটের মধ্যে ভালো পারফরম্যান্সের জন্য Second hand Laptop  কিনতে।  তাই চলুন আর বেশি কথা না বলে সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনার আগে চেক করবেন এমন ১৩টি গুরুত্বপূর্ণ  বিষয়ের কথা জেনে নিই। 

Physical Condition (বাহ্যিক অবস্থা)

ল্যাপটপের বাহ্যিক অবস্থা চেক করুন যেমনঃ

  • কোনো  , ডেন্ট বা ভাঙা অংশ আছে কিনা দেখুন
  • screen hinge ঢিলা কিনা চেক করুন
  • কীবোর্ডের বোতাম সব ঠিকমতো কাজ করছে কিনা দেখুন
  • পোর্টগুলো লুজ বা ড্যামেজ কিনা চেক করুন

বাহ্যিক অবস্থা ‍যদি খারাপ দেখেন তাহলে বুঝবেন ল্যাপটপটি খুব খারাপ ভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। তাই এ ধরণের স্ক্র্যাচ পড়া ল্যাপটপ না কেনায় ভালো। 

ডিসপ্লে ঠিক আছে কিনা

ডিসপ্লের সমস্যা থাকলে সে ল্যাপটপ না কেনায় উত্তম। ‍ডিসপ্লের সমস্যা থাকলে সেটা ঠিক করা অনেক খরচের। আর ডিসপ্লের সমস্যা থাকলে ডিভাইজ চালাতেও অসুবিধা হয়। ডিসপ্লের যে বিষয় গুলো দেখবেন। 

  • স্ক্রিনে ডেড পিক্সেল আছে কিনা
  • স্ক্রিনে কালো দাগ বা লাইন আছে কিনা 
  • ব্রাইটনেস বাড়িয়ে-কমিয়ে দেখুন ঠিকমতো কাজ করছে কিনা
  • ভিডিও চালিয়ে দেখুন কোনো সমস্যা মনে হচ্ছে কিনা 

ব্যাটারি হেলথ চেক

সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনার পেছনে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ব্যাটারি হেলথ। এটা খুবই কমন একটি সমস্যা তাই কেনার আগে ফুল চার্জ দিলে কতক্ষণ ব্যাকআপ দেয় চেক করে নিন। এছাড়াও চার্জ ঠিক মতো নিচ্ছে কিনা, ব্যাটারি ফুল হলে হঠাৎ চার্জ কমে যাচ্ছে কিনা এসকল বিষয চেক করে কিনুন। 

যদি ব্যাটারি খারাপ হয় তাহলে আলাদা করে ব্যাটারি কিনতে হতে পারে যা আপনার জন্য বাড়তি একটা খরচ বাড়িয়ে ‍দিবে। 

প্রসেসর (CPU) ও পারফরম্যান্স

একটি ল্যাপটপের আসল শক্তি হলো প্রসেসর তাই কেনার আগে প্রসেসর চেক করতে ভুলবেন না। সবার আগে দেখুন কোন জেনারেশনের প্রসেসর (Intel 6th gen, 8th gen ইত্যাদি)।  এর পর আপনার কাজ অনুযায়ী Core i3, i5, i7 ইত্যাদি বেছে নিন। আমার মতে খুব পুরাতন প্রসেসর হলে না কেনায় ভালো। 

কোন জেনারেশেনের প্রসেসর কিনবেন এটা আপনার কাজের উপর নির্ভর করে। আপনি যদি নরমাল Browsing, Office অ্যাপলিকেশন এর মতো কাজ করতে চান তাহলে i3 বা i5 যথেষ্ট, কিন্তু Editing বা Gaming করতে চাইলে ভালো প্রসেসর দরকার।

RAM ও Storage

পারফরম্যান্স অনেকটাই নির্ভর করে RAM ও Storage এর উপর। তাই সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনার ক্ষেত্রে প্রসেসর এর পরে যে বিষয় টি চেক করতে হবে সেটি হলো  RAM ও Storage। 

  • RAM কমপক্ষে 8GB হলে ভালো
  • SSD থাকলে ল্যাপটপ অনেক ফাস্ট হবে
  • HDD হলে স্লো লাগতে পারে

দাম সামান্য বেশি হতে পারে তবে সম্ভব হলে SSD যুক্ত ল্যাপটপ নেওয়ার চেষ্টা করুন এটাই পারফরম্যান্সও ভালো পাবেনে এবং দীর্ঘ দিন ব্যবহারও করতে পারবেন। 

কীবোর্ড ও টাচপ্যাড চেক

ল্যাপটপ ব্যবহার করতে গেলে কী বোর্ড যদি খারাপ হয় তাহলে চালাতে খুবই বিরক্তিকর মনে হবে।  কীবোর্ড ও টাচপ্যাড প্রতিদিনের ব্যবহারের জন্য এগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই এটি চেক করতে ভুলবেন না। সব বোতাম চাপ দিয়ে দেখুন কাজ করছে কিনা, টাচপ্যাড স্মুথ চলছে কিনা, ডাবল ক্লিক বা ল্যাগ করছে কিনা।

একবার টাইপ করে দেখুন এতে সহজেই বুঝতে পারবেন কোনো সমস্যা আছে কিনা। কেনার সময় যদি এগুলো চেক করে নেন তাহলে পরবর্তীতে আর কোনো বিড়ম্বনায় পড়তে হবে না। কম টাকায় সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কিনে জিতে যেতে পারবেন। 

স্পিকার ও ওয়েবক্যাম

অনেকেরই এই জিনিস গুলো প্রয়োজন পড়ে না তাই কেনার আগে চেক করে না । কিন্তু পরবর্তীতে যদি প্রয়োজন পড়ে সেক্ষেত্রে সমস্যায় পড়তে হতে পারে তাই কেনার সময় এগুলো চেক করে কিনুন। মূলত যারা কন্টেন্ট ক্রিয়েটর তাদের স্পিকার ও ওয়েবক্যাম এর ব্যবহার করা পড়ে। এছাড়াও যারা গান শুনতে পছন্দ করেন বা যারা অনলাইন ক্লাস করেন তাদের ক্ষেত্রে  এটি প্রয়োজন পড়ে। তাই কেনার আগে এগুলো চেক করে নিবেন। 

  • স্পিকার সাউন্ড পরিষ্কার কিনা
  • ওয়েবক্যাম কাজ করছে কিনা
  • মাইক ঠিকমতো ইনপুট নিচ্ছে কিনা

হিটিং সমস্যা আছে কিনা

ল্যাপটপে হিটিং একটা বড় সমস্যা। যেহেতু পুরাতন ল্যাপটপ কিনবেন সেহেতু হিটিং সমস্যা থাকতে পারে এজন্য এটি চেক করে কেনা ভালো। চেক করার জন্য কিছুক্ষণ ভিডিও চালিয়ে ‍দেখুন ল্যাপটপ গরম হচ্ছে কিনা এবং ফ্যানে বেশি শব্দ হচ্ছে কিনা। যদি এগুলো সব ঠিক থাকে তাহলে নিশ্চিন্তে এটি ভালো ল্যাপটপ। 

আর’ অতিরিক্ত হিটিং হলে ভবিষৎতে সমস্যা আরও বাড়বে। তাই এরকম ল্যাপটপ না কেনায় ভালো। 

 অরিজিনাল চার্জার ও এক্সেসরিজ

ল্যাপটপের সাথে অরজিনাল চার্জার আছে কিনা চেক করুন। নকল চার্জার অনেক সময় ল্যাপটপের ক্ষতি করতে পারে। সম্ভব হলে বক্স বা কাগজ পত্র সহ ল্যাপটপ কিনুন। 

ল্যাপটপ চুরি করা কিনা যাচাই করুন

এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় কিন্তু অনেকেই এটিকে এড়িয়ে চলে যান। আপনি কেনার সময় যদি যাচাই করে না নেন পরবর্তীতে এটি যদি চুরি করা ল্যাপটপ হিসাবে প্রমাণিত হয় তাহলে আপনার জরিমানা হতে পারে এবং ল্যাপটপ আসল মালিক কে ফিরিয়ে দিতে হবে। তখন দেখা যাবে একসাথে আম সালা সব যাবে। চুরি করা যাচাই করতে যে বিষয় গুলো চেক করতে পারেন। 

  • বিক্রেতার কাছ থেকে ক্রয়ের প্রমাণ (invoice) চাইতে পারেন
  • সিরিয়াল নাম্বার চেক করুন

সন্দেহজনক কিছু মনে হলে এড়িয়ে চলুন। আর খুব দামে যদি অনেক ভালো ল্যাপটপ পেয়ে যান তাহলে একটু ভালো ভাবে যাচাই করে নিবেন।

Operating System ও সফটওয়্যার

Windows অ্যাক্টিভেটেড কিনা, ড্রাইভারগুলো ঠিকমতো ইনস্টল আছে কিনা, ভাইরাস বা অপ্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আছে কিনা এগুলো চেক করুন। অনেকেই ছোট খাটো বিষয় মনে করে এগুলোকে গায়ে লাগায় না কিন্তু এই ছোট খাটো বিষয়ও একটি ভালো ল্যাপটপ যাচাই করার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সম্ভব হলে নতুন করে Windows সেটআপ দেওয়া ভালো।

 দাম যাচাই করুন

একই মডেলের নতুন ও পুরনো ল্যাপটপের মধ্য দামের তুলনা করুন। এতে নতুন নাকি পুরাতন ল্যাপটপ কেনা ভালো হবে সেটা বুঝতে সুবিধা হবে। দাম যাচাই করতে মার্কেট রিচার্চ করুন। আপনার আশেপাশের মার্কেট গুলো দেখুন, ফেসবুক গ্রুপ বা বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেস দেখুন। 

খুব বেশি দাম হলে দরদাম করে দেখুন। যদি বাস্তবসম্মত দাম না হয় তাহলে সেখান থেকে ক্রয় করা বাদ দেন অন্য কোথাও ট্রাই করুন।

ট্রাস্টেড সেলার থেকে কিনুন

আপনার নিজের পরিচিত বা বন্ধুর পরিচিত যদি কেউ থাকে তাহলে তার থেকে কিনুন। কোনো সমস্যা মনে হলে  পরবর্তীতে হেল্প পেতে পারেন। আর যদি অনলাইন থেকে অডার করেন তাহলে  কেনার আগে অবশ্যই রিভিউ দেখে নিন। চেক করার জন্য সম্ভব হলে ১-২ দিনের চেক ওয়ারেন্টি নিন। 

 ১-২ দিনের সময় নিলে ভালোভাবে চালিয়ে দেখে নিতে পারবেন। কোনো সমস্যা থাকলে সহজে ধরা পড়বে। অনলাইন থেকে কেনার থেকে সরাসরি দেখে কিনলে সবচেয়ে নিরাপদ।

শেষ কথা

সেকেন্ড হ্যান্ড ল্যাপটপ কেনা খারাপ সিদ্ধান্ত না — বরং সঠিকভাবে কিনলে এটা হতে পারে স্মার্ট ইনভেস্টমেন্ট। কিন্তু না বুঝে কিনলে ঝামেলা নিশ্চিত। তাই সময় নিয়ে উপরের প্রতিটি বিষয় ভালোভাবে চেক করুন। আশা করি উপরিউক্ত বিষয় গুলো দেখে কিনলে বাজেটের মধ্য ভালো ল্যাপটপ কিনতে পারবেন। 

একটা কথা মনে রাখবেন, সস্তা বলে কিনবেন না, ভ্যালু দেখে কিনবেন।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url