অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইড ও টিপস (২০২৫)
গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করার উপায়- সম্পূর্ণ গাইডঅ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং বর্তমান সময়ের অনলাইন ইনকামের জনপ্রিয় একটি মাধ্যম। তাই আপনিও কি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাচ্ছেন? কিন্তু বুঝতে পারছেন না কোথায় থেকে, কিভাবে শুরু করবেন? তাহলে আজকের পোস্ট-টি আপনার জন্য। আজকের পোস্ট থেকে affeliate marketing সম্পূর্ণ গাইড স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন।
সূচিপত্রঃ অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইড ও টিপস (২০২৫)
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি?
- ২০২৫ সালে কেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন?
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইন থেকে ইনকাম
- কোন কাজের জন্য কোন অ্যাফিলিয়েট প্লাটফর্ম ভালো
- ফেজবুক ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- টিক টক দিয়ে মার্কেটিং
- ইউটিউব মাধ্যমে Affiliate Marketing
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট
- ব্লগ ওয়েবসাইট বানিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- ব্লগ ওয়েবসাইট দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন?
- ব্লগ ওয়েবসাইট দ্বারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিছু টিপস
- মোবাইল দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা
- সফল Affiliate মার্কেটর হতে টিপস
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইড- শেষ মন্তব্য
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইড ও টিপস (২০২৫)
বর্তমান সময়ে সবকিছু কেমন জানি অনলাইন ভিত্তিক হয়ে গিছে, দৈনন্দিন জীবনের সকল কিছুই এখন অনলাইনে পাওয়া যায়। এখন আর কষ্ট করে বাজারে লোকের ভিড়ের মধ্যো কোনো কিছু ক্রয় করতে ধাক্কা ধাক্কি করতে হয় না, সব এখন হাতের মুঠোয়।তাই আপনিও শুরু করতে পারেন অনলাইন ব্যবসা।তবে, অনলাইন ব্যবসা শুরু করতে চাইলেই হবে না। ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হলে শিখতে হবে সঠিকভাবে মার্কেটিং যা, আপনার ব্যবসাকে করে তুলে আরও ফলপ্রসূ।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফল হতে হলে সবার আগে আপনাকে বুঝতে হবে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কি? অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং হলো- এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে আপনি অন্য কোনো কোম্পানি পণ্য বা সেবা প্রমোট করবেন।অর্থাৎ, কোনো পণ্যো আপনার দেওয়া লিংকের মাধ্যমে কেউ কিনলে আপনি কমিশন পাবেন। আরও সহজ ভাষায় বললে- আপনি বিক্রেতা না হয়েও, পণ্য বা সেবা বিক্রয়ে ভুমিকা রাখেন।
২০২৫ সালে কেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন?
২০২৫ সালে এই মার্কেটিং চাহিদা দিন দিন আরও বড় হচ্ছে, এটি নতুন মার্কেটরের জন্য দারুণ একটি সুযোগ নিজের ব্রান্ড এবং আয়ের উৎস গড়ে তোলার।কিন্তু অনেকেই অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করছে না তাহলে আপনি কেন করবেন? চলুন জেনে নেওয়া যাক।
- কোনো রকম বিনিয়োগ ছাড়াই, সম্পূর্ণ ফ্রী-তে শুরু করা যায়।
- ঘরে বসে ইনকাম করা সম্ভব।
- প্যাসিভ ইনকাম বা ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে আয় বলতে পারেন।
- ব্লগ, ইউটিউব, ফেজবুক, টেলিগ্রাম- সব জায়গায় কাজ করা যায়।
- ভবিষ্যৎতে নিজের ব্রান্ড তৈরির সবচেয়ে বড় সুযোগ।
তাহলে আপনিই ভাবুন।এতগুলো সুযোগ সুবিধা পাওয়া যাচ্ছে।তাহলে দেরি কেন- নিম্ন থেকে সম্পূর্ণ মার্কেটিং কৌশল শিখুন এবং আজই শুরু করুন আপনার অনলাইন ব্যবসা।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং অনলাইন থেকে ইনকাম
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য সর্বপ্রথম একটি নিস (Niche) বেছে নাও।যে কোনো একটা নিশ বেছে নিলে আপনার ব্যবসায় লাভবান হতে সুবিধা হবে।কারণ- আপনি যে নিস নিয়ে কাজ করছেন সে পণ্য কেনার জন্য লোক আপনার কাছে আসবে।সঠিক অডিয়েন্স টার্গেট করতে আপনার সুবিধা হবে। ধরুন- আপনি টেকনোলজি (মোবাইল, গ্যাজেট) প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ তাহলে এই রিলেটেড জিনিসপত্র অনলাইনে যেসব মানুষ খোজাখুজি করছে তাদের কাছে আপনার পোস্ট পৌঁছাতে সুবিধা হবে ফলে বিক্রির সম্ভবনা অনেকগুণ বেড়ে গেল। জনপ্রিয় ও মানুষের চাহিদা সম্পন্ন নিস বেচে নিলে বিক্রি এবং কমিশন সবই বেশি বেশি পাবেন।
এখন আপনার নিশ সিলেক্ট করার করার পর যে বিষয়টির প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত সেটি হলো- Affeliate platform নির্বাচন করা। বর্তমান দেশি ও বিদেশি অনেক অ্যাফিলিয়েট সাইট রয়েছে।যেমন- বাংলাদেশি সাইট (Daraz, othoba) এবং বিদেশি সাইট- Amazon Associates, ShareASales, ClickBank, CJ Affeliate।
আপনি আপনার নিশের উপর ভিত্তি করে, যে সাইটের অ্যাফিলিয়েট করতে চান সেই সাইটে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রামের জন্য রেজিষ্ট্রেশন করে যোগদান করুন। কারণ- প্রত্যোক সাইট কোনো না কেনো প্রোডাক্টের জন্য Famous, তাই আপনার প্রোডাক্ট ভালো হলে মানুষও আপনার কাছ থেকে পরবর্তী-তে আরও পণ্য কিনতে আগ্রহী হবে।খারাপ পণ্য হলে নিজের ব্রান্ডের ক্ষতি। কখনো খারাপ পণ্যোর জন্য রিভিউ দিয়ে বিক্রি করবেন না।এতে আপনার অডিয়েন্স কমে যাবে।
কোন কাজের জন্য কোন অ্যাফিলিয়েট প্লাটফর্ম ভালো
আপনার নিস অনুযায়ী সঠিক প্লাটফর্ম বেছে নেওয়া জরুরি। কারণ- সব প্লাটফর্ম সব পণ্য ভালো দেয় না।কিছু পণ্য আছে তাদের প্লাটফর্মে বেস্ট। তাহলে চলুন জেনে নিই কোন কাজের (নিস) জন্য কোন প্লাটফর্ম বেছে নিব।
- অ্যামাজন: জনপ্রিয় নিস- টেক গ্যাজেট, বই, হোম অ্যাপ্লায়েন্স, হেল্থ।
- ShareASales: জনপ্রিয় নিস- ফ্যাশন, সফটওয়্যার, টুলস, হোস্টিং।
- ClickBank: জনপ্রিয় নিস- ডিজিটাল প্রোডাক্ট, কোর্স, সফটওয়্যার।
- CJ Affeliate: জনপ্রিয় নিস- ই-কমার্স, ট্রাভেল।
- Daraz: জনপ্রিয় নিস- Fashion, electronics, computer accessories।
নতুন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটরের হলে (Daraz,othoba) মতো বাংলাদেশি প্লাটফর্ম বেছে নিন, তাহলে আপনি সহজে বিকাশ,নগদ,রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট গ্রহণ করতে পারবেন।আর যদি আন্তর্জাতিক সাইট বেছে নেন তাহলে পেমেন্ট গ্রহণ করতে হলে Payoneer এর মতো একাউন্ট থাকা প্রয়োজন।
এজন্য প্রথম অবস্থায় Daraz এর মতো সাইট ব্যবহার করুন পরবর্তী-তে যখন আপনার ভালো পরিমানে সেল করতে পারছেন তখন আন্তর্জাতিক প্লাটফর্ম ব্যবহার করতে পারেন।এখন চলুন কোন প্লাটফর্মে কত % অ্যাফিলিয়েট কমিশন পাওয়া যায় জেনে নিই। তাহলে প্লাটফর্ম নির্বাচনের কাজ আরও সহজ হবে।
| affiliate platform | কমিশন(%) | পেমেন্ট পদ্ধতি |
|---|---|---|
| Daraz | 4% – 14% (ক্যাটাগরি অনুযায়ী) | মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ) |
| othoba | 3% – 8% (পণ্যের ধরন অনুযায়ী) | বিকাশ, নগদ |
| ClickBank | 30% – 75% পর্যন্ত (ডিজিটাল প্রোডাক্ট) | Payoneer, Bank Transfer, Wire Transfer |
| Amazon | 1% – 10% (ক্যাটাগরি অনুযায়ী) | Payoneer, Bank Transfer, Gift Card |
| ShareASales | 5% – 50% (Merchant অনুযায়ী) | Payoneer, Bank Transfer |
| CJ Affeliate | 3% – 50% (Advertiser অনুযায়ী) | Payoneer |
এতক্ষণ আমরা প্রোডাক্টের ক্যাটাগরি নির্বাচন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং প্লাটফর্ম সম্পর্কে বিস্তারিত জানলাম।এখন, পণ্য গুলো বিক্রির মাধ্যম অনলাইন ভিত্তিক হওয়ায় আমাদের মার্কেটিং কৌশল জানা জরুরি। তাহলে চলুন নিম্ন থেকে ফেজবুক, ইউটিউব, ইনস্টাগ্রাম, টিকটিক, ই-কমার্স ওয়েবসাইট, ব্লগ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার নিয়ম জেনে নিই।
ফেজবুক ব্যবহার করে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
বর্তমান সময়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের ট্রেন্ডিং উপায়গুলোর মধ্যে ফেজবুক মার্কেটিং অন্যতম।বাংলাদেশের বেশির ভাগ মানুষই ফেজবুক ব্যবহার করে। ফেজবুক ইউজার দিনদিন বেড়েই চলেছে, বর্তমান বাংলাদেশে ৬ লক্ষের বেশি ফেজবুক ইউজার রয়েছে। ফেজবুকের মাধ্যমে কয়েকটি পদ্ধতিতে মার্কেটিং করতে পারেন যেমন-
- Facebook page কন্টেন্ট তৈরি করে
- Post Bost করে
- ফেজবুক গ্রুপ মার্কেটিং করে।
আপনি যদি কন্টেন্ট ক্রিয়েট করেন এবং আপনার পেজে ভালো পরিমাণে অডিয়েন্স আছে তাহলে আপনি বিভিন্ন প্রোডাক্টের রিভিউ দিয়ে যে কোনো প্রডাক্টের লিংক প্রমোট করতে পারেন।এছাড়াও আপনার পোস্ট বুস্ট করতে পারেন অথবা পার্টনারশিপ এড রান করাতে পারেন।বড় বড় অনেক কন্টেন্ট ক্রিয়েটর আছেন তাদের সাথে কথা বলুন এবং এই এড রান করিয়ে ভালো পরিমানে সেল করতে পারবেন।
আর, যদি পার্টনারশিপ এড না চান সেক্ষেত্রে, অল্প কিছু টাকা দিয়ে আপনার পোস্ট বুস্ট করে সহজে লোকের সামনে পৌছিয়ে দিতে পারেন, এটাও একটি ভালো মাধ্যম। এখন ফেজবুক গ্রুপ মার্কেটিং করতে হলে সর্বপ্রথম একটি group Create করতে হবে এবং গ্রুপটি প্রফেশনাল হতে হবে।গ্রুপের নাম এমনভাবে দিবেন যা সহজে মনে রাখা যায়। মানুষ সার্চ করলে সহজে খুজে পায়। আপনার টপিক যদি হয় "অনলাইন ইনকাম" তাহলে নাম এমন দিতে পারেন👇
গ্রুপ খোলার পর লোগো এবং ডেসক্রিপশন ভালোভাবে সেট করুন। যাতে গ্রুপটি প্রফেশনাল মনে হয়। নিম্নে একটি ছবি দেওয়া হলো-
আপনার গ্রুপে প্রতিনিয়ত ভালো কন্টেন্ট দেন এবং আপনার আইডি থেকে সকলকে গ্রুপে যুক্ত হওয়ার জন্য invite করুন।যখন ভালো পরিমানে মেম্বার এড হয়ে যাবে তখন আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি বেশি হবে এবং ইনকামও ভালো হবে।আর ইনস্টাগ্রাম থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে চাইলে Same কাজগুলোই করুন। ভালো কন্টেন্ট দেন এবং অডিয়েন্স দের কাছে পরিচিত হন অথবা পোস্টের বুস্টের মাধ্যমে প্রচার করুন।
টিক টক দিয়ে মার্কেটিং
বাংলাদেশের অনেক টিকটক ইউজার রয়েছে তাই এই সোশ্যাল সাইট আপনার প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য ভালো মাধ্যম হিসেবে আপনিই নিতে পারেন।তবে, tik tok থেকে মার্কেটিং করতে হলে প্রয়োজন আপনার ভালো অডিয়েন্স। কারণ- আপনি যদি মানুষের কাছে পরিচিত না হয়ে উঠেন তাহলে কেউ কিনতে আগ্রহী হবে না।এজন্য ফ্যান ফলোয়ার থাকলে মার্কেটিং আরও ফলপ্রসূ হবে।
টিক টক থেকে দুইটি উপায়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে আয় করতে পারেন। প্রথম টি নিজে কন্টেন্ট তৈরি করে মানুষের কাছে বিশ্বস্ততা অর্জন করে অন্যটি অল্প কিছু টাকা খরচ করে অর্থাৎ বুস্ট করে।
ইউটিউব মাধ্যমে Affiliate Marketing
ইউটিউব অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কৌশল সম্পূর্ণ ফেজবুকের মতো তবে, এখানে ইউটিউব গ্রুপ খোলার সিস্টেম নাই সেক্ষেত্রে আপনি Whattapp channel বা Telegram Channel তৈরি করে সেখানে আপনার ইউটিউব অডিয়েন্স গুলোকে যুক্ত হওয়ার জন্য বলতে পারেন। তাহলে তারা আপনার হোয়াইটসআপ বা টেলিগ্রাম চ্যানেলে যুক্ত হবে সেখানে আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করতে পারবেন।
আর, আপনি টেলিগ্রাম চ্যানেলে মানুষকে যুক্ত করলে শুধুমাত্র অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করে ইনকাম করতে পারবেন এমনটা নয় আরও বেশ কয়েকটি উপায়ে ইনকাম করতে পারেন। যেমন- স্পন্সর সিপ, পেইড মেম্বারশিপ ইত্যাদি।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং ওয়েবসাইট
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে নিত পারো।এতে আপনার ব্যবসাকে আরও প্রফেশনাল ভাব দেয়। তাজন্য একটি e-commers website তৈরি করুন। wix.com, shopify এই সাইটে মোবাইল দিয়ে রেজিষ্ট্রেশনের মাধ্যমে সহজে ই-কমার্স ওয়েবসাইট বানিয়ে নিতে পারবেন।তারাপর আপনার টপিকের উপর ভিত্তি করে একটা ডোমেইন নেম কিনন। ধরুন স্মার্টওয়াচ বিক্রি করবেন তাহলে ডোমেইন নেম হবে (smartwatchdokan.com) এ ধরনের দিতে পারেন।
তারপর আপনার আপনার ওয়েবসাইট ছেলের স্মার্টওয়াচ, মেয়েদের স্মার্টওয়াচ, সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া প্রোডাক্ট এই ধরনের ক্যাটাগরি দিয়ে প্রোডাক্ট গুলো বিভক্ত করুন এবং আপনার ওয়েবসাইট সুন্দর ভাবে সাজিয়ে নিন।তারপর, ফেজবুক, ইউটিউবের মতো সোশ্যাল মিডিয়ায় বা সরাসরি গুগল ট্রাফিক নিয়ে আসুন।ধীরে ধীরে আপনার ওয়েবসাইটের পরিচিতি বাড়াবে এটি দ্বারা আপনার দীর্ঘ মেয়াদি ইনকাম করতে পারবেন।
ব্লগ ওয়েবসাইট বানিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
ব্লগ ওয়েবসাইটের মধ্যে অ্যাফিলিয়েট প্রোগ্রাম চালু এটা বর্তমান সময়ে এর জনপ্রিয়তা দিন দিন বেড়েই চলেছে।আপনি যে প্রোডাক্টের অ্যাফিলিয়েট করবেন সে প্রোডাক্ট নিয়ে পোস্ট লেখুন।সে প্রোডাক্টের গুণাগুণ তুলে ধরুন। ধরুন আপনি লাইফ স্টাইল বিষয়ক কেনো পণ্য যেমন- মোটা হওয়ার ওষুধ। তাহলে এভাবে লেখুন।
আপনার ওষুধের গুণাগুণ,কত বছর বয়সী ব্যাক্তির জন্য ভালো, শরীর মোটা করতে কতদিন সময় লাগবে এসব কিছু নিয়ে বিস্তারিত লেখুন এবং নিচে প্রোডাক্ট কেনার জন্য ছবি এবং অ্যাফিলিয়েট লিংক যুক্ত করে দিন। তাহলে সে সেখান থেকে পণ্যটি ক্রয় করবে এবং আপনি কমিশন পাবেন।
ব্লগ ওয়েবসাইট দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কেন করবেন?
ব্লগ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অ্যাফিলিয়েট করলে আপনি বেশ কয়েকটি দিক থেকে উপকার পাবেন।ব্লগ দ্বারা মার্কেটিং করলে পাবেন প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ।অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ের জন্য Blog website কেন বেছে নিবেন নিম্নে তুলে ধরা হলোঃ-
- প্যাসিভ ইনকামের সুযোগ।পণ্য বিক্রয় ছাড়াও, গুগল এডসেন্স, adestra মতো অ্যাড (ads) ব্যবহার করে আয় করতে পারবেন। আমাদের ওয়েবসাইটের মতো।
- ফ্রী ওয়েবসাইট তৈরি করা যায়।Blogger দ্বারা ফ্রি ওয়েবসাইট বানাতে পারবেন।
- দীর্ঘমেয়াদি ইনকামের সুযোগ।অর্থাৎ, একদিন পোস্ট করে রাখলে সে পোস্ট থেকে দীর্ঘদিন ভিজিটর পাওয়া যায়। ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ইনকাম বলতে পারেন।
ব্লগ ওয়েবসাইট দ্বারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং কিছু টিপস
ব্লগ ওয়েবসাইট দ্বারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস। যা আপনার জানা খুবই জরুরি।
- SEO শেখা, কারণ- বেশিরভাগ ভিজিটরই গুগল থেকে আসবে যার জন্য পোস্ট গুলো র্যাংকিংয়ে আনা জরুরি।পোস্ট র্যাংক করলে ভিজিটর পাবেন বেশি।seo সহ পোস্ট তৈরি করুন। উদহারণ সরুপ:- আপনি যদি গুগলে সার্চ করেন (রবি ওয়াইফাই দাম, স্পেসিফিকেশন, প্যাকেজ) অথবা গার্মেন্টস ব্যবসা করার নিয়ম এসব দিয়ে তাহলে প্রথমেই আমাদের ওয়েবসাইটটি পাবেন। নিচে ছবি দেওয়া হলো।
- Keyword Research করো। Arhafs,Google keyword planner এর মতো টুলস ব্যবহার করো এবং seo structure ঠিক রেখে পোস্ট তৈরি করো।
- সঠিকভাবে পোস্ট Title, meta description, image alt tag সবকিছু ভালোভাবে ব্যবহার করুন।এভাবে আকর্ষণীয় একটা টাইটেল ব্যবহার করুন।যেমন- অনলাইন ইনকামের জন্য প্রয়োজনীয় ৪টি টুল। এসবকিছু ঠিক ঠাক করে পোস্ট পাবলিশ করুন।
- আপনার পোস্টের লিংক সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।যেমন- Facebook, pinterest, Linkdin, Instagram,Threads। তাহলে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে ভিজিটর পাবেন পাশাপাশি পোস্টের জন্য ব্যাংলিংকও পেয়ে যাবেন।
- ইমেইল সাবক্রিপশন অবশন রাখো।
মোবাইল দিয়ে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং
মোবাইল দ্বারা অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্ভব কিনা এটা অনেকের প্রশ্ন কিন্তু মোবাই দিয়ে খুব সহজেই অ্যাফিলিয়েট থেকে ইনকাম করা সম্ভব। চলুন মোবাইল থেকে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার নিয়ম জেনে নিই।
মোবাইল দ্বারা কাজ করতে হলে আপনাকে প্রথমেই যে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে তার হলো ইন্টারনেট কানেকশন, জিমেইল, Whattsapp, Messenger তারপর পোস্ট তৈরি করার জন্য কিছু টুলস ব্যবহার করুন যেমন- ইমেজ বানানোর জন্য Canva এবং ভিডিও এডিটিং করার জন্য Cap cut ব্যবহার করতে পারেন।এখন আপনি যে অ্যাফিলিয়েট সাইটে রেজিষ্ট্রেশন করেছেন সে সাইট থেকে আপনার পছন্দের প্রোডাক্ট নিয়ে মার্কেটিং করুন।
মার্কেটিং করার জন্য ফেজবুক, টিক টক, ইউটিউব, ওয়েবসাইটের মতো সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করুন। প্রোডাক্টের সেল বাড়াতে প্রতিনিয়ত পোস্ট পাবলিশ করুন, ভালো করে ইমেজ এবং ভিডিও তৈরি করুন, Offer Banner তৈরি করুন এবং ভিডিওতে ভালো Info-graphic, Animation যুক্ত করুন। আপনার কন্টেন্ট কোয়ালিটি যত ভালো হবে, ততো মানুষের আর্কষণ বাড়বে এবং সেল বৃদ্ধি পাবে। বর্তমান ভিডিও তৈরিতে ai অনেক সহজ করে দিয়েছে। Ai দ্বারা ভিডিও তৈরি এবং তাতে সুন্দর ভয়েজ ওভার ব্যবহার করতে পারো।
কাস্টমারের কাছ থেকে ভালো ভালো রিভিউ নিন এবং সেই কাস্টমারের দেওয়া রিভিউ ভিডিও পোস্ট করুন। এতে করে মানুষ প্রোডাক্ট কিনতে আরও বেশি আগ্রহী হবে।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং এর সুবিধা কি কি চলুন জেনে নিই। কেন আপনি অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করবেন?
- বিনামূল্যে শুরু করা যা।শুরু করতে কোনোরকম টাকা খরচ করতে হয় না।
- বাংলাদেশে অবস্থান করেও ডলার আয়ের বিরাট সুযোগ।
- নিজের প্রোডাক্ট লাগে না।কোনো রকম ম্যানেজ করার ঝামেলা নেই।শুধুমাত্র প্রোডাক্টের লিংক শেয়ার করবে আর কমিশন পাবেন।
- কাজের জন্য নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা নেই। নিজের স্বাধীনতায় কাজ করা যায়।
- ঘরে বসে মোবাই/কম্পিউটার দ্বারা কাজ শুরু করা যায়।
- আয়ের কেনো সময়সীমা নেই। যত বিক্রি ততো কমিশন।
- নিজের স্কিল বাড়াতে সাহায্য করে। Digital Marketing, SEO, Branding, video editing এর মতো দক্ষতা সহজেই অর্জন করতে পারবেন।
- রিস্ক নাই। নিজের কোনো প্রোডাক্ট না থাকায় ব্যবসায় লস হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নাই।
- নতুন নতুন প্রোডাক্ট যুক্ত হয়। ফলে Affiliate Marketor- রা পায় নতুন আয়ের সুযোগ।
সফল Affiliate মার্কেটর হতে টিপস
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিংয়ে সফল হতে গেলে শুধুমাত্র লিংক শেয়ার করলেই হবে না। একজন সফল affiliate Marketor হতে হলে বেশ কয়েকটি বিষয়ে খেয়াল রাখা উচিত। নিম্নে সফল হওয়ার জন্য কিছু গুরুত্বপূর্ণ টিপস তুলে ধরা হলোঃ-
- নিস নির্বাচন- এমন একটি নিস নির্বাচন করুন যার ভ্যালু অনেক অর্থাৎ, যেসব জিনিস বেশি বিক্রি হয়।
- ভালো প্রোডাক্ট বেছে নাও।প্রোডাক্ট কোয়ালিটি খারাপ হলে মানুষের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।
- ভালো কন্টেন্ট তৈরি করো। রিভিও,আনবক্সিং, অফার আপডেট, প্রোডাক্টের তুলনা এসব নিয়ে ভিডিও বানাও।
- অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করার জন্য শুধুমাত্র Facebook বা Website বেছে নিও না। মাল্টি প্লাটফর্ম বেছে নাও।এক প্লাটফর্মের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ইনকাম কমে যাবে।
- প্রতি পোস্টে CTA (Call to action) ব্যবহার করো। এটি আয় বাড়াতে খুব কাজে দেয়।
- অডিয়েন্সদের সাথে যোগাযোগ রাখুন। প্রত্যোকের কমেন্টের রিপ্লাই দেওয়ার চেষ্টা করুন।
- ডাটা অ্যানালাইসিস করুন।আপনার কোন পোস্ট বা ভিডিওতে বেশি ইম্প্রেশন আসছে এবং সেল বেশি হচ্ছে সেই প্রোডাক্ট নিয়ে কাজ করুন।
- সফল হতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় প্রতিদিন কন্টেন্ট দেওয়া। ছোট হলেও প্রতিনিয়ত একটা করে পোস্ট পাবলিশ করুন। ব্লগ ওয়েবসাইট নিয়ে কাজ করলে seo শিখুন।
এসকল বিষয়ে ঠিক থাকলে দ্রুত সফল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটর হয়ে উঠতে পারবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইড- শেষ মন্তব্য
আজকের পোস্টে অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পূর্ণ গাইড তুলে ধরেছি। আশা করি আপনাকে পরিপূর্ণ মার্কেটিং ধারণা দিতে পেরেছি। মনে রাখবেন আপনি একদিনেই সফল মার্কেটর হতে পারবেন না। তাই প্রতিনিয়ত কন্টেন্ট পোস্ট এবং অডিয়েন্সদের সাথে যোগাযোগ রাখার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।প্রথম ৫ থেকে ৬ দিনে কোনোরকম রেজাল্ট না পেলে হতাশ হবেন না।আপনার চেষ্টা চালিয়ে যান ১০-১৫ দিনের মাথায় "ইনশাআল্লাহ" ফলাফল পাবেন।
অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং মরবে না, বরং দিন দিন আরও বাড়বে। সবাই এখন অনলাইন কেনাকাটা করছে, বাংলাদেশ সম্পূর্ণ রূপে অনলাইন ব্যবসা শুরু হয়নি তবে আগামী ১-২ বছরে আরও অ্যাফিলিয়েট সাইট বাড়বে ফলে মার্কেটরও বাড়বে তাই আজকেই ভিডিও তৈরি ও SEO এর মতো কাজ শিখুন এবং অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং করুন। ভবিষ্যৎতে এর চাহিদা আরও বাড়বে। আজকের পোস্ট নতুন থেকে পুরাতন সকল অ্যাফিলিয়েট মার্কেটরের জন্য সম্পূর্ণ গাইড। আপনার যদি আরও কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে আমাদের কমেন্ট সেকশনে কমেন্ট করে জানাতে পারেন।ধন্যবাদ।





রিফাত আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url